ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জমে উঠেছে ঈদবাজার

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ প্রতিনিধি

এপ্রিল ১৬, ২০২৩, ১১:৩৪ এএম

জমে উঠেছে ঈদবাজার

ঈদ মানে নতুন কিছু চাই। তা হোক পোশাক কসমেটিক্স সামগ্রী, জুতা বা অন্য কিছু। ঈদুল ফিতর আসতে আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। তবে এবার ঈদের কেনাকাটা মানেই বিদেশি পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নওগাঁয় এবার তুলনামূলক আগেভাগেই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।

ফুটপাত থেকে শুরু করে বহুতল শপিং কমপ্লেক্স সব জায়গাতেই শিশু ও নারী- পুরুষের পথচারণায় সরগম হয়ে উঠেছে বিপণী বিতানগুলো। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদ বাজার উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বিপণিবিতানগুলো আলোকসজ্জা করেছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি। রোজার শুরু থেকেই এবার মার্কেট কেনাকাটা জমে উঠলেও দিন যত যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। দোকানিদের এখন দম ফেলার সময় নেই। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুক্রবারেও খোলা থাকছে শহরে বিপণীবিতানগুলো।

এখন পর্যন্ত বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারা তবে দোকানদারেরা জিনিসপত্রের দাম বেশি হাকছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শহরের দেওয়ান বাজার, আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্স, মক্কা মার্কেট, জহির প্লাজা, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, সৌদিয়া সুপার প্লাজা, মাজেদা সুপার মার্কেট, গীতাঞ্জলি মার্কেটসহ  অভিজাত মার্কেটে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বিকালে এবং সন্ধ্যার পর এসব মার্কেটে ভীড় দেখা গেছে।  

কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের  ভীড় সবচেয়ে বেশি। তার মধ্যে আয়োজন এর ভিন্নতার কারণে আসমান বিগবাজার, শিলামনি, শিমুল বুটিকস বাঁকুড়া বস্ত্রালয়, পালকি বুটিকস, কুমারখালী বস্ত্রালয়, প্রিয়া ফ্যাশনসহ বেশ কিছু দোকানে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভীড় জমাচ্ছেন। বিপনিবিতানগুলোতে নারী ও শিশুদের ভীড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

বাজার ঘুরে  দেখা গেছে, ছোট বড় সব বয়সী মেয়েদের জন্য ভিন্ন ধরনের থ্রি পিস, জিপসি, টপস, ফ্লোর টাচ নামে পোশাক রয়েছে বিপণীবিতানগুলোতে। এসব পোশাক এক হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও তরুণীদের হাল ফ্যাশনের বিভিন্ন ধরনের গাউন ফ্রগ ও লেহেঙ্গা, সারেরা, গারেরা চাহিদা ও রয়েছে প্রচুর।

ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ভজ গোবিন্দ’ নাটকের চরিত্র ডালি চৌধুরী। ওই চরিত্রের নামে দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে ডালি গাউন ও ডালি স্কার্ট। এই গাউন ও স্কার্ট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। এছাড়া পদ্মাবত সিনেমার চরিত্র রাণী পদ্মাবতীর নামে বাজারে আসা ‘পদ্মাবতী লেহেঙ্গা’ তরুণীদের মাঝে বেশ সাঁড়া ফেলেছে।

এ লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। ছেলেদের সুতি পাজামা-পাঞ্জাবী ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ছেলেরা চাচ্ছে সুলতান সুলেমান সিরিয়ালের সুলতানী পাঞ্চাবী।

তবে মেয়েরা কাপড়ের পাশাপাশি পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে কসমেটিক্স সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন শহরের চুরি পট্টির বিভিন্ন কসমেটিক্স দোকানে। এছাড়াও যথেষ্ট ভিড় লক্ষ্ করা গেছে শহরের বিভিন্ন জুতার দোকানেও। ছোট থেকে শুরু করে সবাই পছন্দের জুতা কিনতে ব্যস্ত।

আনন্দবাজার শপিং কমপ্লেক্সের পোশাকের দোকান শিলামনির বিক্রয়কর্মী সোহেল বলেন, ‘ভজ গোবিন্দ নাটকের নায়িকা ডালি চৌধুরী যে সব গাউন ও স্কার্ট পড়েছে মেয়েরা ওই পোশাকগুলো বেশি কিনছে। এইবার ডালি গাউন ও স্কার্ট হিট। শুধু বড়রা না ছোটদের জন্যও এই পোশাক আছে। এছাড়া পদ্মাবতী লেহেঙ্গাও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

দেওয়ান বাজার মার্কেটের আসমান বিগবাজার দোকানের সত্ত্বাধিকারী ওহিদুর রহমান বলেন, ‘দশ রমজানের পর থেকেই এবার ঈদের কেনাকেটা পুরো দমে জমে উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা ভালই হবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের দোকানে সব ধরণের কালেকশন রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের হাল ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে দোকানে বিভিন্ন ধরণ ও দামের পোশাকের সমাহার রেখেছি। এর মধ্যে তরুণীদের বেশি পছন্দ দেখা যাচ্ছে ডালি গাউন ও সারেরা গারেরা-এর প্রতি।’

ঈদের কেনাকাটা করতে মান্দা উপজেলা থেকে চার ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে করে নওগাঁ শহরে এসেছেন বাবা আমজাদ হোসেন, শহরের দেওয়ানবাজার মার্কেটে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বড় ছেলে ও মেঝ মেয়ে বায়না ধরেছে জিন্স পান্ট, পাঞ্জাবি ও ডালি গাউন কিনে দিতে হবে। আর ছোট মেয়েটার পছন্দ ডালি স্কার্ট। তিনটে জামা কিনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হলো। মেয়েদের আবদার পূরণ করতে দেওলিয়া হয়ে গেলাম।

কাপড়পট্টি মার্কেটের থান কাপড় ও ছিট কাপড় ব্যবসায়ী শাপলা ক্লথ স্টোরের মালিক করিম বলেন, ‘সাধারণত রোজার শুরু থেকেই ছিট কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম  হয়নি। কারণ, কাপড়ের ছিট কিনে সেগুলো তৈরি করতে সময় লাগে, এজন্য ক্রেতারা ঈদকে কেন্দ্র করে একটু আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে থাকেন। এবার যেভাবে বেচাকেনা হচ্ছে তাতে আমরা খুশি।’

নওগাঁ পোশাক মালিক সমিতির সভাপতি সাজাহান আলী বলেন, নওগাঁয় বেশ কিছু ভালো মানের তৈরি পোশাক বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের রুচি এবং ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে বিক্রেতারা পণ্যের সমাহার রাখছেন। আর ছিট কাপড়ের জন্য আগে থেকেই নওগাঁর একটা সুনাম রয়েছে। ফলে নওগাঁর লোকজনকে কেনাকাটার জন্য বাইরের শহরে যেতে হয় না।

নওগাঁ জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রুবেল আহমেদ  বলেন, জনগণের কাছ থেকে যেন ব্যবসায়ীরা বেশি দাম না নিতে পারে এ ব্যাপারে সতর্ক  রয়েছে আমাদের ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এআরএস

 

Link copied!