ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে নতুন মুখ, ড. সুরাতুজ্জামান

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ৯, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে নতুন মুখ, ড. সুরাতুজ্জামান

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শেষ বয়সের সারথি হিসেবে পরিচিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ দুজন চৌকস কর্মকর্তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে।

ড. মো. সুরাতুজ্জামানকে নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং শেখ কামরুল হাসানকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞতার ঝুলি এবং মেধার সংমিশ্রণে গঠিত এই নতুন টিম দেশের পেনশন ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক মহলে সুপরিচিত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ড. সুরাতুজ্জামানের কর্মজীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং সফলতায় মোড়ানো। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে গভীর প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি ড. সুরাতুজ্জামান একজন মননশীল লেখক এবং সমাজসেবক।

তাঁর লেখনীতে প্রায়শই উঠে আসে দেশের প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন দিক। বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে তিনি নিভৃতে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তাঁর এই মানবিক গুণাবলি তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তাঁর এই অভিজ্ঞতাগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে যোগদান করেছেন বিসিএস (নিরীক্ষা ও হিসাব) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের আরেকজন প্রথিতযশা কর্মকর্তা শেখ কামরুল হাসান। ড. সুরাতুজ্জামানের মতো তাকেও অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শেখ কামরুল হাসানের কর্মজীবন মূলত আর্থিক প্রশাসন এবং হিসাব ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়াও তিনি অর্থ নিয়ন্ত্রক (সেনাবাহিনী) এবং বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতো স্পর্শকাতর পদে আসীন হয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর বিচরণ উল্লেখযোগ্য।

তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর এই অভিজ্ঞতা দেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়াও তিনি বিনিয়োগ বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলে চা বাগান শ্রমিক ভবিষ্যৎ তহবিল কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আজও প্রশংসিত। চা শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে তাঁর অবদান দেশের পেনশন ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ড. মো. সুরাতুজ্জামান এবং শেখ কামরুল হাসানের মতো দুজন ঝানু কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে, সরকার পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক।

পেনশন কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বেশ কিছু বড় কাজ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে পেনশন স্কিম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং এর দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাগুলো সম্পর্কে জনগণকে আশ্বস্ত করা।

যেহেতু এটি জনগণের গচ্ছিত অর্থের বিষয়, তাই এখানে হিসাবের স্বচ্ছতা রক্ষা করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শেখ কামরুল হাসানের নিরীক্ষা ও হিসাব বিষয়ক অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি পেনশন প্রদান প্রক্রিয়াকে শতভাগ ডিজিটাল এবং হয়রানিমুক্ত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।

ড. মো. সুরাতুজ্জামানের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং শেখ কামরুল হাসানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা জ্ঞান, এই দুইয়ের মেলবন্ধন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে একটি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাবে। প্রশাসনের ১৫তম ব্যাচের এই দুই কর্মকর্তার একে অপরের সাথে দীর্ঘদিনের কাজের বোঝাপড়া রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে বাড়তি সুবিধা দেবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ড. সুরাতুজ্জামানের নীতি নির্ধারণী দক্ষতা এবং শেখ কামরুল হাসানের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও হিসাবজ্ঞানের সমন্বয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিমটি একটি টেকসই মডেলে রূপান্তর হবে। বিশেষ করে ড. সুরাতুজ্জামানের সমাজকল্যাণমুখী মানসিকতা সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবে তাঁকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অন্যদিকে, শেখ কামরুল হাসান চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য পেনশন নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে কাজ করবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এখন একটি নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। সরকারের 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার প্রত্যয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি হবে অন্যতম স্তম্ভ। ড. মো. সুরাতুজ্জামান এবং শেখ কামরুল হাসান তাদের মেধা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে সফলতার চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যাবেন, এমনটাই সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা। পেনশন কর্তৃপক্ষের এই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বার্ধক্য হবে নিরাপদ এবং সম্মানজনক।

সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই দায়িত্বকে তারা কেবল একটি চাকরি হিসেবে নয়, বরং দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের কাছে একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নেতৃত্বে। এই দুই মেধাবী কর্মকর্তার হাত ধরে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন, একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকরী পেনশন ব্যবস্থা, বাস্তবে রূপ নেবে অচিরেই। তাদের এই দুই ও এক বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদে পেনশন কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

জেএইচআর

Link copied!