আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১৯, ২০২৬, ০১:৫৮ এএম
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসে সুইস ব্যাংকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানতের পরিমাণ। এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল।
পরবর্তী দুই বছর আমানতের পরিমাণ কমলেও ২০২৪ সাল থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এক সুইস ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। সে হিসাবে প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
এসএনবির তথ্য বলছে, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা হয়েছে। গত এক দশকের হিসাবেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
তবে সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থকে অবৈধ বা পাচারকৃত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধ উপায়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অর্থ সংরক্ষণ করে থাকে। এছাড়া বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও নিয়ম অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখতে পারেন।
শুধু সুইজারল্যান্ডে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোতেও বাংলাদেশিরা অর্থ জমা রাখতে পারেন। এসব আমানতও বাংলাদেশিদের মোট জমার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের দায় (লায়াবিলিটি) হিসেবে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টানা দুই বছর বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই দুই বছরে জমার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ এবং পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ।
এদিকে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) এবং দলঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে যান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময় দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রেও এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এম জি