ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শাকসু নির্বাচন বনাম তারেক রহমানের সমাবেশ, জবিতে মুখোমুখি ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

শাকসু নির্বাচন বনাম তারেক রহমানের সমাবেশ, জবিতে মুখোমুখি ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাকসু নির্বাচন স্থগিত হওয়ার রেশ আছড়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বা জবি ক্যাম্পাসে। শাকসু নির্বাচন না হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের এক নেতার দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাথে চরম বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এমনকি এই বিরোধের জেরে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং ঢাকা শহরে থাকতে না দেওয়ার পাল্টা হুমকিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতি।

ইব্রাহিম খলিলের হুঁশিয়ারি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে ছাত্রশিবির। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এক নজিরবিহীন মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন শাকসু নির্বাচন যদি না হয়, তবে সিলেটে তারেক রহমানের কোনো সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সিলেটের সড়ক ও রেলপথসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। ইব্রাহিম খলিলের দাবি যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করছে, তাদের কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ করার নৈতিক অধিকার নেই। তাঁর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন ছাত্রদল নেতারা।

ছাত্রদলের প্রতিবাদ ও ভয়াবহ পরিণামের হুমকি শিবির নেতার এই বক্তব্যের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। 

বুধবার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এর জবাব দিয়েছেন।

তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে লিখেছেন ভদ্রতা ও সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। যদি সীমা ছাড়িয়ে যান, তবে এর পরিণাম হবে ভয়ানক। ঢাকা শহরের কোথাও থাকতে পারবেন না, না ক্যাম্পাসে, না বাসাবাড়িতে। 

হিমেল আরও যোগ করেন যে ছাত্রদল সুস্থ ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলেই এতদিন অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সহ্য করেছে। কিন্তু দলীয় আবেগ ও নেতৃত্বের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি পরোক্ষভাবে শিবিরকে ইঙ্গিত করে বলেন ছাত্রলীগের আশ্রয়ে থাকা কোনো সংগঠন যদি উল্টোপাল্টা বক্তব্য পরিহার না করে, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর পাল্টা তোপ বিরোধের আগুনে ঘি ঢেলেছেন জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। তিনি ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্যকে পাগলামি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন জবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক সস্তায় আলোচনায় আসার জন্য পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন। আমরা উপাচার্য মহোদয়কে চিকিৎসার অনুরোধ জানাব না, বরং নিজেরাই তাকে ধরে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসব।

ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি শিবির নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থানের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করছে যে দুই সংগঠনের এই বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বড় ধরণের সংঘর্ষে রূপ নেয় কি না। 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে শাকসু নির্বাচনের মতো একটি শিক্ষায়তনিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়কে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমাবেশের সাথে গুলিয়ে ফেলা রাজনৈতিক অপকৌশল। তারেক রহমানের মতো নেতার সমাবেশ বন্ধের হুমকি দিয়ে ছাত্রশিবির মূলত ছাত্রদলের সাথে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির উসকানি দিয়েছে। 

অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঢাকা শহরে থাকতে না দেওয়ার হুমকিও সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়। এখন দেখার বিষয় দুই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই স্থানীয় বিরোধ মেটাতে কোনো উদ্যোগ নেন কি না, নাকি শাকসু নির্বাচনের ইস্যুটি সিলেটের সীমানা ছাড়িয়ে ঢাকার রাজপথেও উত্তাপ ছড়ায়।

জেএইচআর

Link copied!