আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগোলেও বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি জটিলতায় তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো সমন্বয় করতে গিয়ে বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এদিকে, নতুন বেতন কাঠামোয় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণে বিদ্যমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু গ্রেড নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বেতন বৃদ্ধির যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা পরিবর্তন করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জানা গেছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালিত একটি বড় জরিপকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়ের পক্ষে এবং ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।
বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।
বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এসব ভাতায় তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এএন