ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
ডিজিটাল জালিয়াতি ও নির্বাচনী প্রোপাগান্ডা

সংবাদমাধ্যমের ‘ছদ্মবেশে’ যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে বিষাক্ত অপতথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

সংবাদমাধ্যমের ‘ছদ্মবেশে’ যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে বিষাক্ত অপতথ্য
ফাইল ছবি

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে অপতথ্যের এক বিশাল জাল। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এখন আর শুধু টেক্সট বা পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না, বরং জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর 'ফটোকার্ড' বা গ্রাফিক কার্ড হুবহু নকল করে ছড়ানো হচ্ছে কাল্পনিক সব বক্তব্য। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতেই এই ডিজিটাল জালিয়াতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নকশায় তৈরি করা একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়। কার্ডটিতে লেখা ছিল, ‘নির্বাচনের পরে বিএনপি চাঁদাবাজি কমিয়ে দিবে’। বানান ভুল এবং লোগোর সূক্ষ্ম পার্থক্যের এই কার্ডটি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন। মন্তব্যের ঘরে দেখা গেছে, অনেক সাধারণ মানুষ এটিকে সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত তথ্য মনে করে তীব্র সমালোচনা করছেন। অথচ যাচাই করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটি এ ধরনের কোনো সংবাদই প্রকাশ করেনি।

একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামেও একটি ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক উক্তি সম্বলিত কার্ড ছড়ানো হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয় তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি জামায়াত না করেন, আপনি স্পষ্ট অমুসলিম’। এখানেও একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের লোগো বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা থেকেও রেহাই পাননি নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতারা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা মিতুকে জড়িয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা।

ডিজিটাল অধিকার ও তথ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইট এবং ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব ও রিউমর স্ক্যানার তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে:

জালিয়াতির পরিসংখ্যান: রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, গত এক বছরে গণমাধ্যমের নাম ও লোগো ব্যবহার করে অন্তত ৭৪৪টি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে ভুক্তভোগী করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন দুটি করে ভুয়া কার্ড তৈরি হচ্ছে।

মাধ্যম: ডিসমিসল্যাবের মতে, ছড়ানো গুজবের ২১ শতাংশই গ্রাফিক কার্ডের মাধ্যমে হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যমের ডিজাইন হুবহু নকল করা হচ্ছে।

কেন ফটোকার্ড? মানুষ এখন দীর্ঘ সংবাদ পড়ার চেয়ে চোখের পলকে ছবির ওপর লেখা টেক্সট বা ফটোকার্ড পড়তে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই সুযোগটিই নিচ্ছে অপতথ্য প্রচারকারীরা।

সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য নীতি-নির্ধারকরা বারবার নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল গুজবের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। এবারের নির্বাচনে আগের চেয়ে অনেক বেশি এআই দিয়ে তৈরি ছবি এবং ভিডিওর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। তবে সহজলভ্যতার কারণে 'ফটোকার্ড' তৈরিই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়াতে এবং জনমতের মেরুকরণ ঘটাতে এই অপকৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হলেও সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলে এই ভুয়া কার্ডগুলো চেনা সম্ভব। ফ্যাক্টচেকাররা কয়েকটি কার্যকর উপায় বাতলে দিয়েছেন:

১. লিংক যাচাই: প্রকৃত সংবাদমাধ্যম যখন ফটোকার্ড পোস্ট করে, তখন তার ক্যাপশনে অবশ্যই বিস্তারিত সংবাদের একটি লিংক থাকে। ভুয়া কার্ডে সাধারণত কোনো লিংক থাকে না অথবা সেখানে 'বিস্তারিত কমেন্টে' লিখে রাখা হয়।

২. লোগো ও বানানের অসংগতি: জালিয়াতি করা কার্ডগুলোতে লোগোর রেজোল্যুশন ঝাপসা থাকে অথবা লোগোর বানানে সূক্ষ্ম ভুল থাকে (যেমন: লোগো নকল করতে গিয়ে ফন্টের পরিবর্তন)। এছাড়া খবরের শিরোনামে অপেশাদার ভাষা বা ব্যাকরণগত ভুল থাকা ভুয়া কার্ডের বড় লক্ষণ।

৩. অফিসিয়াল পেজ যাচাই: কোনো খবর দেখে সন্দেহ হলে সরাসরি সেই সংবাদমাধ্যমের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে 'সার্চ' করে দেখা উচিত। যদি সেখানে কার্ডটি না থাকে, তবে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি ভুয়া।

৪. অ্যাকাউন্টের ধরন: যে পেজ বা আইডি থেকে তথ্যটি ছড়ানো হচ্ছে, সেটির আগের পোস্টগুলো যাচাই করুন। যদি দেখা যায় সেটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, তবে সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যের যুদ্ধে আপনার সচেতনতাই ঢাল।

নির্বাচনী মৌসুমে অপতৎপরতা চালানো গোষ্ঠীগুলো চাইবে আপনাকে বিভ্রান্ত করে ভুল সিদ্ধান্তে পরিচালিত করতে। একটি মিথ্যা ফটোকার্ড শেয়ার করার আগে কয়েক সেকেন্ড ব্যয় করে তার সত্যতা যাচাই করা বর্তমান সময়ের নাগরিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ছদ্মবেশে ছড়ানো এই বিষাক্ত অপতথ্য সমাজের অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই 'শেয়ার' করার আগে ভাবুন, যাচাই করুন। ডিজিটাল এই যুদ্ধে সত্যকে টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এএন

Link copied!