আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
রাজনীতিতে ধৈর্য এবং তৃণমূলের সাথে সংযোগ থাকলে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শেখ রবিউল আলম রবি। ধানমন্ডি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতি সামলানোর পর, আজ তিনি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেশের যোগাযোগ খাতের তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি এই নতুন যাত্রার সূচনা করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁকে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতো শক্তিশালী সব দায়িত্ব।
শেখ রবিউল আলম রবির এই উত্থান কেবল নাটকীয়ই নয়, বরং রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ধানমন্ডি এলাকার সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে তিনি অতি পরিচিত মুখ। ৪৮ বছর বয়সী শেখ রবিউল আলম বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
তাঁর শেকড় প্রোথিত ধানমন্ডি থানা বিএনপিতে, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেন। তিনি পান ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সড়ক, রেল এবং নৌ-পথ—এই তিনটিই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। শেখ রবিউল আলমকে এই তিন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে বিশ্লেষকরা কয়েকটি কারণ দেখছেন। সড়ক, নৌ ও রেলপথের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হওয়ায় তিন মন্ত্রণালয় একই নেতৃত্বের অধীনে থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
ঢাকা-১০ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজধানীর যানজট ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। এটি যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা, রেলের আধুনিকায়ন এবং নদী দখলমুক্ত করা তাঁর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শপথ গ্রহণ শেষে শেখ রবিউল আলম রবি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ধানমন্ডির অলিগলি থেকে আজ আমি যে অবস্থানে এসেছি, তা কেবল দলের আদর্শ ও কর্মীদের ভালোবাসার ফল। যোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে তিনি এক মুহূর্তও অপচয় করবেন না। একজন তৃণমূল নেতার হাত ধরে যোগাযোগের তিনটি প্রধান বিভাগ পরিচালিত হওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করল।
এর আগে এই দপ্তরে বড় বড় আমলাতান্ত্রিক বা ব্যবসায়িক ব্যাকগ্রাউন্ডের নেতাদের দেখা যেত। শেখ রবিউল আলমের মাধ্যমে তৃণমূলের দাবিদাওয়ার প্রতিফলন কতটুকু ঘটে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ। ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি থেকে আজ যোগাযোগ খাতের তিন দপ্তরের অভিভাবক হওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় চমক।
জেএইচআর