আমার সংবাদ ডেস্ক
এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশকে হিন্দু-মুসলিম বা আমেরিকা-রাশিয়ায় ভাগ করা যাবে না। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলার সময় সত্য উচ্চারণ করতে হবে। মুক্তিবাহিনী তো হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেনি; আমরা যুদ্ধ করেছি রাজাকারের সঙ্গে।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে বা একে ‘জঙ্গি তৎপরতা’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ বন্ধ থাকতে হবে।
এদিন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় জামায়াত ইসলামীর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহিদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না।
এর প্রতিবাদে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য নিজের অবদানের কথা বলতে গিয়ে অন্যের বিশ্বাসের ওপর আঘাত করার অধিকার রাখেন না। আমি কোন দল বা আদর্শ অনুসরণ করব, সেটি আমার নাগরিক অধিকার। সংবিধান আমাকে এই স্বাধীনতা দিয়েছে।
তিনি ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
অধিবেশনে লিগ্যাল এইড কার্যকর করা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বির্তকই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
জেএইচআর