আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
দেশজুড়ে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১৩ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে মোট ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত এবং ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। নিহতদের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতদের ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এই দুর্ঘটনার শিকার।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এ বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন, আহত হয়েছেন ৩৫ জন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ১ জন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় মোট ৭৯৫টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ছিল।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে এবং ০ দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে ঘটেছে।
এছাড়া স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনের মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিং এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।
এম জি