স্পোর্টস ডেস্ক
জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও ঐতিহাসিক দ্বৈরথগুলোর একটি আবারও মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে সামনে রেখে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আটলান্টা পুলিশ।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। অন্যদিকে টানা সাফল্যের ধারা ধরে রেখে আরেকটি ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী সংঘর্ষে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলটি আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত এবং এর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এক বিবৃতিতে আটলান্টা পুলিশ জানায়, ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল উপলক্ষে শহরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ম্যাচ ভেন্যু, বিনোদন এলাকা এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত জনবল ও কৌশলগত নিরাপত্তা সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে আয়োজনটি উপভোগ করতে পারেন।
শেষ ষোলোতে মিসরকে ৩-২ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি স্লোগান গাইতে দেখা যায়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন ম্যারাডোনা। অন্যদিকে অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন।
২৪ বছর পর বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার একটি যুদ্ধপ্রবীণ সংগঠন সমর্থকদের রাজনীতির পরিবর্তে ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ফকল্যান্ড বা ‘লাস মালভিনাস’ সংক্রান্ত সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং সংবিধানে উল্লেখিত শান্তিপূর্ণ উপায়ে তুলে ধরা উচিত। খেলাধুলা ও জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে আটলান্টা পুলিশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ সন্তোষজনক ছিল। তবে যুক্তরাজ্যে থাকা সমর্থকদেরও একই ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ, গত সপ্তাহান্তে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ৫০০টির বেশি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এম জি