সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
জুলাই ২, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)-এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গরু আক্রান্ত হওয়ায় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি, তীব্র জ্বর ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেওয়ায় এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা।
সরেজমিনে উপজেলার ইছাদিঘী, কলমেঘা, বড়চওনা, কচুয়া, কালিদাস, বহেড়াতৈল, কুতুবপুর, কাকড়াজান, বোয়ালী ও তক্তারচালা গ্রামের বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে রোগটির ভয়াবহ চিত্র। খামারিদের দাবি, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ইতিমধ্যে দুই শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৫টি গরু মারা গেছে। এর মধ্যে কচুয়া গ্রামেই গত এক মাসে তিনটি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন সহজলভ্য না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। অনেকে বাধ্য হয়ে পল্লি চিকিৎসক বা কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যার ফলে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠছে।
কচুয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম মিয়া জানান, হঠাৎ গরুর শরীরে গুটি দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা করেও তিনি তাঁর গরুটি বাঁচাতে পারেননি। আক্কাছ নামের আরেক খামারি অভিযোগ করেন, খবর দেওয়ার পরও প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন আসেন না এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সময়ে ওষুধ খাইয়ে নিজের গরু সুস্থ করার কথা জানিয়েছেন বেপারীপাড়া গ্রামের মাজেদা খাতুন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত পশুকে সুস্থ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে দুই শতাধিক গরু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য তাঁদের কাছে থাকলেও, কোনো গরু মারা যাওয়ার আনুষ্ঠানিক খবর তাঁরা পাননি। তিনি জানান, সরকারি ভ্যাকসিন প্রতি তিন মাস পরপর খুব সীমিত পরিমাণে আসে, যা উপজেলার চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
তাই আক্রান্ত হওয়ার আগেই খামারিদের বাইরে থেকে হলেও ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে যেকোনো সমস্যায় গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে না গিয়ে সরাসরি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে যোগাযোগের আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
জেএইচআর