আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১২, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
রাজধানী ঢাকার বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে দুটি বৃহৎ বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, মিথেন গ্যাস, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রকল্প দুটির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে চীনের সিএমইসি গ্রুপ। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন নগর বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির মাধ্যমে আরেকটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস সংগ্রহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মাতুয়াইলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। দৈনিক হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা।
এ প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে সেখানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য এ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এসব উদ্যোগ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে দ্রুত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনেরও নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএন