ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

মেয়াদের মাঝপথেই যবনিকা, সোমবারই পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২১, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

মেয়াদের মাঝপথেই যবনিকা, সোমবারই পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ও তার স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

একবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ রাজনীতিতে আরও একটি নাটকীয় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার।

সব ঠিক থাকলে আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবারই তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল, অর্থনৈতিক মন্দা এবং একের পর এক নীতিগত ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যেমন এক বিশাল শূন্যতা ও অস্থিরতার তৈরি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বৃটেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্তফা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, বরং বেশ কিছুদিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভ ও সংকটেরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। মূলত তিনটি প্রধান কারণে প্রধানমন্ত্রীকে এই চরম পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

প্রথমত, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা ও মূল্যস্ফীতি। বিগত দুই বছর ধরে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়া, জ্বালানি সংকট এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সরকারের অর্থনৈতিক নীতিকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করে।

দ্বিতীয়ত, দলীয় বিদ্রোহ ও অনাস্থা। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব দলের ভেতরেই তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছিল। গত সপ্তাহে দলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য তাঁর নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে চিঠি দেন। দলের শীর্ষ সারির কয়েকজন মন্ত্রী ইতিমধ্যেই ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রীকে একরকম কোণঠাসা করে ফেলে।

তৃতীয়ত, সাম্প্রতিক নীতিগত কেলেঙ্কারি। সম্প্রতি সরকারের গৃহীত কয়েকটি বিতর্কিত কর নীতি এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। সরকারের নিজস্ব নীতি নির্ধারকরাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। আদালতের পক্ষ থেকেও সরকারের কিছু পদক্ষেপকে আইনবহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হলে প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।

শনিবার রাত থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ছিল চরম উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।

অন্যথায় দলের ভেতরেই একটি আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অবমাননা এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোমবার পদত্যাগ করার পথ বেছে নেন।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী সবসময় দেশের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পেয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাঁর সরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি অত্যন্ত ভারী হৃদয়ে কিন্তু সম্মানের সাথে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোমবার লন্ডনের রাজনৈতিক অঙ্গন অত্যন্ত ব্যস্ত ও নাটকীয় হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগোতে পারে, সকাল ৯টা বেজে শূন্য মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে শেষবারের মতো একটি জরুরি বৈঠক করবেন। সেখানে তিনি তাঁর বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন এবং সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাবেন।

সকাল ১১টা বেজে শূন্য মিনিটে ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে পডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে তিনি তাঁর মেয়াদের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং কেন তিনি পদত্যাগ করছেন, তার একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন।

দুপুর ১২টা বেজে ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বাকিংহাম প্যালেসে যাবেন এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করবেন। ব্রিটিশ রাজতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাতে পারেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের খবরের মাঝেই ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী চাবির মালিক কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের পরবর্তী নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম উঠে আসছে।

সম্ভাব্যের তালিকায় চ্যান্সেলর বা অর্থমন্ত্রী যিনি অর্থনীতি বিভাগের প্রধান, তাঁর শক্তির জায়গা হলো দলের ভেতর বড় একটি অংশের সমর্থন রয়েছে এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তাঁর দুর্বলতার জায়গা হলো বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার দায় কিছুটা তাঁর ওপরেও বর্তায়।

দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী, যিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি প্রধান। তাঁর শক্তির জায়গা হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিষ্কার ভাবমূর্তি থাকলেও দুর্বলতার জায়গা হলো তিনি অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনীতিতে কিছুটা কম প্রভাবশালী।

তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে আছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, যিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান। তাঁর শক্তির জায়গা হলো দলের দক্ষিণপন্থী বা কট্টরপন্থী অংশের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তবে তাঁর দুর্বলতার জায়গা হলো বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে সাধারণ জনগণের একাংশে অসন্তোষ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সংবিধান ও দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর ক্ষমতাসীন দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীই কেয়ারটেকার বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের আভাস পাওয়ামাত্রই বিরোধী দলগুলো সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আসরে নেমেছে। প্রধান বিরোধী দলের নেতা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কেবল একজন ব্যক্তির পদত্যাগই এই দেশের সংকটের সমাধান নয়। বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ এবং পচে গেছে। দেশের মানুষ এই রাজনৈতিক সার্কাস থেকে মুক্তি চায়। আমরা দাবি করছি, কোনো রকম অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচন না করে সরাসরি দেশে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হোক। দেশের জনগণই ঠিক করুক তারা কাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

বিশ্লেষকদের জায়গায় হবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দ্রুত নতুন একজন গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচন করতে না পারে, তবে বিরোধী দলের আগাম নির্বাচনের দাবি আরও জোরালো হবে, যা পুরো যুক্তরাজ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ব্রিটেনের এই রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব কেবল দেশটির সীমানার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

প্রথমত, পাউন্ডের দরপতন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের খবরের গুঞ্জনেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলার এবং ইউরোর বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কিত।

দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভূরাজনীতি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডনের এই নেতৃত্ব সংকট পশ্চিমা মিত্রদের কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতিতে খুব বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

গত কয়েক বছরে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক ধরণের অস্থিরতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বিদায় ডাউনিং স্ট্রিটের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সোমবার যদি সত্যি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে তা হবে ব্রিটেনের ইতিহাসে আরও একটি সংকটময় বাঁক।

নতুন নেতৃত্ব কি পারবে ব্রিটেনের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে? নাকি এই পদত্যাগ কেবল একটি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস মাত্র, যা যুক্তরাজ্যকে এক অনিচ্ছাকৃত সাধারণ নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী সোমবার এবং তার পরবর্তী দিনগুলোর রাজনৈতিক নাটকের ওপর। সমগ্র বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে।

জেএইচআর

Link copied!