স্পোর্টস ডেস্ক
জুলাই ১০, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। চোটের কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে না পারা দলের তরুণ তারকা ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। যদিও এখনই তাঁর খেলা নিশ্চিত নয়, তবু সুইস কোচিং স্টাফ মনে করছে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামার মতো অবস্থায় তিনি পৌঁছাতে পারেন।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটিকে সামনে রেখে সুইস শিবিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মানজাম্বির ফিটনেস নিয়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মিসরের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলের মূল কাঠামো ধরে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
ফ্রাইবুর্গের হয়ে দুর্দান্ত মরসুম কাটিয়ে ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মানজাম্বি। আগামী মরসুমে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো। এমন সময় বিশ্বকাপে তাঁর হাঁটুর চোট সুইজারল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পান মানজাম্বি। এর পর থেকেই পুনর্বাসন ও চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
মানজাম্বির খেলার সম্ভাবনা নিয়ে ইয়াকিন বলেন, চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে যদি তা যৌক্তিক হয়, তবেই সে খেলবে। সাম্প্রতিক অনুশীলনে মানজাম্বিকে হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। সতীর্থদের তুলনায় কিছুটা আলাদা থেকে অনুশীলন করেছেন তিনি। হাঁটার সময় তাঁর মধ্যে চোটের প্রভাব স্পষ্ট থাকলেও ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ায় সুইস শিবিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত যদি মানজাম্বি খেলতে না পারেন, তাহলে তাঁর পরিবর্তে জিব্রিল সো-কে একাদশে দেখা যেতে পারে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে মানজাম্বির অনুপস্থিতিতে আর্দন ইয়াশারিকে শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন ইয়াকিন। তবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় বিরতির আগেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগে সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড় মানজাম্বি। এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে বসনিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং কানাডার বিপক্ষে একটি গোল রয়েছে। পাশাপাশি কানাডা ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি করে দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের শুরুতে অবশ্য নিয়মিত একাদশে ছিলেন না মানজাম্বি। কাতার ও বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তবে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচ থেকেই নিজের জায়গা স্থায়ী করে নেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসায় পরিণত হওয়া এই তারকাকে ঘিরেই এখন নতুন করে আশার আলো দেখছে সুইস শিবির।
জেএইচআর